
এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
দক্ষিণ চট্টলার বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের বিভিন্ন পয়েন্ট ফুটপাত দখল করেছে কতিপয় ব্যবসায়ীরা। এতে করে নারী-পুরুষসহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা চলাফেরায় চরম দূর্ভােগে পড়েছে। বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। বাজার ঘুরে দেখা যায়,ব্যস্তবহুল বাজারের নানা পয়েন্টে ডিসি সড়কের একপাশে ফুটপাতে কিছু কতিপয় ব্যবসায়ী বাজারে আগত লোকজনের চলাচল ফুটপাতকে তাদের নিজস্ব জায়গা বিবে চনায় ব্যবসা বানিজ্য করে যাচ্ছেন ফুটপাতের উপর। আরও দেখা যায়,ঈদগাঁও স্টেশন হয়ে বাজারের দক্ষিণ অংশ পযন্ত সড়কের এক পাশেই ড্রেনের উপর স্লাব দিয়ে নির্মিত ফুটপাতে বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়ীক মালামাল রেখেই চলাচল পথ বন্দি করে রেখেছে। সরকারী ডাক ঘরের পাশে ফলফলাদীর মালামালে ফুটপাতটি দখল হয়ে উঠে। এছাড়া প্লাস্টিক সামগ্রী, মাংস বিক্রির স্থান,খাবারের জিনিসপত্রের দোকানসহ নানা কারনে ফুটপাত অংশটি বিভিন্ন পয়েন্টেই ব্যবসায়ীদের দখলে। এদিকে প্রায়শ বাজারে আসা লোকজনরা স্লাবের উপর দিয়ে স্বাচ্ছন্দ পরিবেশে হাঁটাচলা করতে পারেনা। টানা বর্ষণে বাজারের বিভিন্ন অংশে পানিবন্দি থাকার পরেও ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারেনি মানুষরা। পানি পেরিয়েই যাতায়াত করতে হয়েছে তাদের।পথচারী শুক্কুর জানান, ঈদগাঁও বাজারের বড় সমস্যা ফুটপাত দখল। বাজারে একদিকে তীব্র যানজট,অন্যদিকে ফুটপাত দিয়ে হাঁটাচলা দায়। এদিকে ঈদগাঁও বাজার ও বাসস্টেশন যানজট, ফুটপাত দখল, অবৈধ স্থাপনা এবং ব্যবসায়িক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেন ঈদগাঁও উপজেলা প্রশাসন। বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের জন্য নয় দফা নির্দেশনাও জারি করা হয়। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কথাও জানান প্রশাসন।উপজেলা প্রশাসনের জারিকৃত নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, ঈদগাঁও স্টেশন ও বাজার এলাকার সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠা সব অস্থায়ী দোকান নিজ দায়িত্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। মাছ, মাংস, সবজি, ফল ও মুদির দোকানে বাধ্যতামূলক মূল্যতালিকা টাঙাতে হবে এবং রাস্তা ও ফুটপাতের ওপর রাখা সব ধরনের মালামাল দোকানের ভেতর রেখে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া ব্যবসার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের লাইসেন্স ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন থেকে সংগ্রহ করতে হবে। বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে মালবাহী বড় ট্রাকগুলোকে রাত ১০টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে লোড-আনলোড কার্য ক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।যানজট নিরসনে অটোরিকশা,টমটম,সিএনজির জন্য একমুখী চলাচল ব্যবস্থা চালু ও নির্ধারিত পার্কিং পয়েন্ট চিহ্নিত করা হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চালকদের বৈধ লাইসেন্স ও হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, লবণবাহী ট্রাক ও লবণ মিলগুলোকে সরকারি সব শর্ত কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।সচেতন মহলের দাবী, ঈদগাঁও বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পয়েন্ট অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখাসহ ফুটপাত দখলকারী ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জোর দাবী।
